এমপিও নীতিমালা ২০২১: স্কুল-কলেজ এমপিও নীতিমালা (সংশোধিত)

স্কুল কলেজ এমপিও নীতিমালা ২০২১

স্কুল-কলেজ সংশোধিত এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো ২০২১ প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রনালয়। এতে ৫০% কলেজ শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক পদ পাচ্ছেন।

সুখবর: এরই মধ্যে বেসরকারি স্কুল-কলেজের নতুন এমপিওভুক্তির আবেদনের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এবিষয়ে বিস্তারিত জানতে নিচের প্রতিবেদনটি পড়ুন।

নতুন প্রতিষ্ঠানের এমপিও ২০২১: স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্তির আবেদন

স্কুল-কলেজ এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো ২০২১ (২৮ মার্চ, সংশোধিত) প্রকাশ

বহুল প্রতিক্ষিত স্কুল-কলেজের সংশোধিত এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো ২০২১ প্রকাশ করা হয়েছে। দীর্ঘ দিনের শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবীর মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই নীতিমালা সংশোধনে করে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এর দাপ্তরিক ওয়েবসাইটের নোটিশবোর্ডে, নতুন সংশোধিত এমপিও নীতিমালা ২৯/০৩/২০২১ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে প্রকাশিত হয়।

এর আগে মাদ্রসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের এমপিও নীতিমালার সংশোধন করে গত বছর প্রকাশ করা হয়।

আরো পড়ুন:

এনটিআরসিএ ৩য় গণবিজ্ঞপ্তি ২০২১: স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষক নিয়োগ

মাদ্রাসা ও কারিগরি এমপিও নীতিমালা (সংশোধিত) ২০২০

কলেজের সকল প্রভাষক ৮ ও ১৬ বছর পূর্তিতে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাবেন

২০২১ খ্রিষ্টাব্দে ২৯ মার্চ প্রকাশিত নতুন সংশোধিত এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামোয়  শিক্ষকদের জন্য কিছু সুখবর আছে।

উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ ও ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক চাকুরীর ৮বছর পূর্তিতে, কলেজের মোট প্রভাষকের ৫০% জৈষ্ঠ প্রভাষক/সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাবেন।

উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের ক্ষেত্রে জৈষ্ঠ প্রভাষক, আর ডিগ্রি কলেজের ক্ষেত্র সহকারী অধ্যাপক নামে একই স্কেলে দুটি পদ থাকবে।

তবে এক্ষেত্রে ১০০ নম্বরের মূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হবে।

আগে যেখানে খুব অল্প সংখ্যক প্রভাষক সহকারী অধ্যাপক পদ পেতেন। নতুন নীতিমালায় সহকারী অধ্যাপক নিয়ে কলেজ শিক্ষকদের দীর্ঘ দিনের বঞ্চনার অবসান হলো।

এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কলেজ শিক্ষকরা দীর্ঘদিন থেকে সহকারী অধ্যাপক স্কেলের ক্ষেত্রে, অনুপাত প্রথার বিরোধিতা করে আসছিল।

তবে এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আগে থেকে যারা উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত আছেন, তারা উক্ত পদে বহাল থাকবে। পরবর্তীতে আর উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে সহকারী অধ্যাপক পদ থাকছে না।

উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের নতুন পদোন্নতি প্রাপ্ত প্রভাষক জৈষ্ঠ প্রভাষক পদে পদোন্নতি পাবে। তবে জৈষ্ঠ প্রভাষকও সহকারী অধ্যাপকের সাথে একই গ্রেডে (গ্রেড-০৬) বেতন-ভাতা প্রাপ্ত হবেন।

তবে ৮ বছর পূর্তিতে মোট প্রভাষকের অর্ধেকের বাহিরে এখনও যারা থাকবেন, তাদের জন্য ১০ বছর পূর্তিতে ৮ম গ্রেড প্রাপ্ত হবেন। এরপর আরো ৬ বছর চাকুরীর পর তারা সরাসরি সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাবেন।

স্কুলের সহকারী শিক্ষক থেকে সিনিয়র শিক্ষক হিসাবে পদোন্নতি পাবেন যেভাবে

স্কুলের সহকারী শিক্ষকগণ চাকুরীর জীবনে ১০ গ্রেড পাওয়ার পর ১০ বছর পূর্তিতে সিনিয়র শিক্ষক হিসাবে ৯ম গ্রেডে উন্নীত হবেন।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, শিক্ষায় ডিগ্রি (বিএড/সমমান) না করলে সিনিয়র শিক্ষক হতে পারবেন না।

এরপর আরো ৬ বছর পর অর্থাৎ ১৬ বছরের চাকুরী জীবনে তারা পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড (৮ গ্রেড) প্রাপ্ত হবেন।

এছাড়া আগের বিএড স্কেলকে উচ্চতর গ্রেড/স্কেল হিসাবে বিবেচনা করার নিয়মকে বাতিল করা হয়েছে।

এতে করে শিক্ষকদের বিএড স্কেল ছাড়াও আরো দুটি উচ্চতর স্কেল পাওয়ার পথ সুগম হলো।

আরো দেখুন: SSC-HSC Short Syllabus 2022: এসএসসি-এইচএসসি পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচী

এমপিও নীতিমালা ২০২১: প্রভাষক থেকে জৈষ্ঠ প্রভাষক/সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির রূপরেখা

এমপিও নীতিমালায় নতুন করে পদোন্নতির মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে শিক্ষকরা পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতির দাবী করে আসছিল।

তবে এখানে সরাসরি পরীক্ষা না হলেও, শিক্ষা ও চাকুরী জীবনের কিছু বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে একটি প্রতিযোগিতা মুলক মূল্যায়ন পদ্ধতি কথা বলা হয়েছে।

স্কুল-কলেজ এমপিও নীতিমালা ২০২১ (পদোন্নতি মূল্যায়ন পদ্ধতি)
[জৈষ্ঠ অধ্যাপক/সহকারী অধ্যাপক পদে মূল্যায়ন পদ্ধতির সূচক, এমপিও নীতিমালা ২০২১ এর ১১.৬ অনুচ্ছেদে বর্ণিত]
পদোন্নতির ক্ষেত্রে উপরের মূল্যায়ন পদ্ধতির কিছু বিষয় নিয়ে কিছুটা সমস্যা হতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।

যেমন- ‘প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকে অনুকরনীয়/সৃজনশীল দৃষ্টান্ত’ বলতে এখানে কী বোঝানো হবে তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। এছাড়াও ক্লাশে মোট উপস্থিতি সহ কিছু বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে বলে অনেকে মনে করছেন।

সংশোধিত এমপিও নীতিমালার উপরোক্ত অস্পষ্ট বিষয়গুলো মন্ত্রণালয়ের নজরে এলে, প্রভাষক হতে জৈষ্ঠ্য প্রভাষক/সহকারি অধ্যাপক পদে পদোন্নতির রূপরেখা প্রণয়নের জন্য কমিটি গঠন করেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ৬ মে, প্রভাষকদের পদোন্নতির রূপরেখা প্রণয়নের জন্য ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে।

কমিটির প্রধান কাজ হবে, ৮ বছর পূর্তিতে প্রভাষকদের সহকারি অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য সুষ্পষ্ট রূপরেখা প্রণয়ন করা। যাতে করে পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট বিধিতে জৈষ্ঠ্য প্রভাষক/সহকারি অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া সহজ হয়।

সহকারি অধ্যাপক পদে পদোন্নতির রূপরেখা প্রণয়ন কমিটি গঠন
[কলেজ প্রভাষকদের পদোন্নতির রূপরেখা প্রণয়নের কমিটি সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি দেখুন]
লক্ষ্য করুন: এদিকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির রূপরেখা প্রণয়ন কমিটির চুড়ান্ত সভা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবিষয়ে আপডেট তথ্য জানতে নিচের প্রতিবেদনটি পড়ুন।

জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির রূপরেখা প্রণয়ন

গ্রন্থাগারিক পদটিতে প্রভাষকের মর্যদা প্রদান ও নিয়োগ প্রদান করবে এনটিআরসিএ

সংশোধিত স্কুল-কলেজ এমপিও নীতিমালায় কলেজের গ্রন্থাগারিক পদটিকে প্রভাষক (গ্রন্থাগার) পদের মর্যদা প্রদান করা হয়েছে।

আর সহকারী গ্রন্থাগারিক পদটিকে সহকারি শিক্ষকের (গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান) সমান মর্যদা দেওয়া হয়েছে।

তবে বেতন-ভাতা অন্যান্য সুযোগ সুবিধা, আগের মত থাকবে বলে সংশোধিত এমপিও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু শিক্ষক পদ মর্যদা দেওয়ার ফলে এই পদের নিয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সাধারণত স্কুল-কলেজের এন্ট্রি পদের শিক্ষক নিয়োগ দেয় এনটিআরসিএ।

কিন্তু বিগত দিনে পদগুলোতে নিয়োগ দিত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি। নবসৃষ্ট শিক্ষক/প্রভাষক সমতুল্য গ্রন্থাগারিক পদে পরিচালনা কমিটি কীভাবে নিয়োগ দিবে?- প্রশ্নটি সামনে চলে আসে।

অবশেষে এমপিও নীতিমালায় উল্লেখিত প্রভাষক/সহকারি শিক্ষক (গ্রন্থাগার) পদটির নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষকে মনোনীত করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩১ মে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পদ দুটিতে এখন থেকে নিয়োগ সুপারিশ করবে এনটিআরসিএ।

১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় পদ দুটির জন্য সিলেবাস প্রণয়ন ও পরীক্ষা গ্রহণের পর সনদ প্রদান করবে। আর সে সনদের ভিত্তিতে পরবর্তীতে গণবিজ্ঞপ্তির আওতায় গ্রন্থাগারিক পদে শিক্ষক নিয়োগ করবে এনটিআরসিএ।

এই আদেশ জারির পর কমিটি কর্তৃক উক্ত পদ দুটির নিয়োগ অবৈধ হবে বলে জানানো হয়েছে।

তবে এই আদেশ জারির আগের কমিটির নিয়োগ বৈধ হবে এবং তারা এমপিওভুক্ত হতে পারবেন বলে জানানো হয়।

স্কুল-কলেজের গ্রন্থাগারিক পদে কমিটির নিয়োগ বন্ধের বিজ্ঞপ্তি
[স্কুল-কলেজের গ্রন্থাগারিক পদে পরিচালনা কমিটির নিয়োগ বন্ধে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি দেখুন]

শিক্ষক-কর্মচারী অন্য পদে চাকুরী করলে বা লাভজনক পদের থাকলে এমপিও বাতিল

স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী অন্য কোন পদে চাকুরী বা লাভজনক পদে থাকতে পারবেন না।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বাইরে কোন শিক্ষক-কর্মচারী চাকুরী করলে, বা অন্য কোন লাভজনক পদে থাকলে তার এমপিও বাতিল করা হবে বলে নীতিমালায় বলা হয়েছে।

এর আগের নীতিমালায় এই বিষয়ে স্পষ্ট কোন নির্দেশনা দেওয়া ছিলো না। তবে নতুন নীতিমালায় বর্ণিত ‘লাভজনক পদ’ বলতে কী বোঝাবে তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি।

স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের শতভাগ ঈদ বোনাস  তথ্যে অস্পষ্টতা

এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা শতভাগ ঈদ বোনাস পাচ্ছেন বলে খবর বেরিয়েছে। কিন্তু এমপিও নীতিমালায় এই বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয় নি।

বোনান ও বৈশাখী ভাতা নিয়ে সংশোধিত নীতিমালার ১৩তম পৃষ্ঠায় ১১.৭(ঙ) নম্বর অনুচ্ছেদে যা বলা হয়েছে-

“শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন/বোনাসের নির্ধারিত অংশ/উৎসব ভাতার নির্ধারিত অংশ/বৈশাখী ভাতার নির্ধারিত অংশ, সরকারের জাতীয় বেতন স্কোল-২০১৫/সরকারের সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেলের সাথে অথবা সরকারের নির্দেশনার সাথে মিল রেখে করতে হবে।”

এখানে শতভাগ ঈদ বোনাস ও বৈশাখী ভাতা বৃদ্ধির কোন স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ‘নির্ধারিত অংশ’- বলতে যতদূর বোঝা যায় আগের মত নির্ধারিত অংশই বোঝাবে।

তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় চাইলে আর অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে, শিক্ষকদের ১০০ ভাগ ঈদ বোনাস দিতে নীতিমালা বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, শিক্ষকদের আগের নিয়মে ঈদ বোনাস দেওয়া হচ্ছে।

সংশোধিত এমপিও নীতিমালা ২০২১ (স্কুল-কলেজ) পিডিএফ (PDF)

প্রকাশিত এমপিও নীতিমালার পিডিএফ কপি সংগ্রহ করা যাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর ওয়েবসাইট থেকে।

নিচের সংযুক্ত লিংক থেকে এমপিও নীতিমালার ৪৪ পৃষ্ঠার অরিজিনাল PDF সংগ্রহ করতে পারেন।

উপরের লিংক থেকে পিডিএফ ফাইল পড়তে অসুবিধা হলে, নিচের লিংক থেকে ইমেজ ফাইল সংগ্রহ করুন। যে কোন ডিভাইসে সহজে দেখা যাবে)।

আর স্কুল-কলেজ সংশোধিত এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো ২০২১ সম্পর্কে জানার থাকলে আমাদের লিখে জানান।

আরো জানুন: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলেছে ১২ সেপ্টেম্বর, শ্রেণি ভিত্তিক ক্লাস রুটিনের নির্দেশনা

তথ্যসূত্র:

শিক্ষা মন্ত্রনালয় এর মাধ্যমিক ও উচ্চ  শিক্ষা বিভাগ

সবশেষ আপডেট: ৩০/০৯/২০২১ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ ০৮:৪৫ অপরাহ্ণ।

Share This:

175 মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।