মাদ্রাসা এমপিও শিটে জন্মতারিখ সংশোধন নীতিমালা ২০২৬

মাদ্রাসা শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিও শিটে ভুল জন্মতারিখ সংশোধনের দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে নতুন নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক অনুমোদিত এই নীতিমালার মাধ্যমে এখন থেকে সুনির্দিষ্ট নিয়মে জন্মতারিখ সংশোধন করা যাবে।
মাদ্রাসা শিক্ষক এমপিও শিট জন্মতারিখ সংশোধন নীতিমালা ২০২৬
মাদ্রাসা শিক্ষকদের এমপিও শিটে ভুল জন্মতারিখ এন্ট্রি সংশোধনের কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান বিদ্যমান নীতিমালায় ছিল না। ফলে অনেক শিক্ষকের আবেদন দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন অবস্থায় ছিল। এই জটিলতা দূর করতে সরকার ‘এমপিও শিটে মুদ্রিত জন্মতারিখ পরিবর্তন/সংশোধন নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়ন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মন্ত্রনালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ থেকে এই বিষয়ে এক নীতিমালা জারি করা হয়েছে। নীতিমালায় এমপিও শিটের তথ্য সংশোধনের নিয়মের বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
এমপিও শিটে জন্মতারিখ সংশোধনের মূল ভিত্তি ও নিয়ম
মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও শিট সংশোধনের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়কে বাধ্যতামূলক ভিত্তি হিসেবে ধরা হবে:
- প্রথম এমপিও আবেদনের সময় দাখিলকৃত দাখিল বা সমমান পরীক্ষার সনদ এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) তথ্য অনুযায়ী সংশোধন করা যাবে।
- চাকরির আবেদনের সময় দাখিলকৃত দাখিল বা সমমানের সনদকেই বয়স নির্ধারণের মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে।
- যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়া বা দাখিল/সমমানের চেয়ে কম শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বয়স সংশোধন করা যাবে না।
- এই সংশোধন প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র ‘করণিক ভুল’ (Clerical Error) হিসেবে বিবেচিত হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদনকারীকে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে মহাপরিচালক, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর সরাসরি অথবা অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সাথে নিচের কাগজগুলো অবশ্যই জমা দিতে হবে:
- বর্তমান এমপিও কপির সত্যায়িত প্রতিলিপি।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ।
- দাখিল বা সমমান পরীক্ষার মূল সনদপত্রের কপি।
- নিয়োগপত্র এবং যোগদানপত্রের কপি।
- ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা।
এমপিও সংশোধন আবেদন নিষ্পত্তি ও আপিল করার সুযোগ
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর আবেদনসমূহ যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনে কমিটি গঠন করতে পারবে। কমিটি প্রয়োজনে শিক্ষা বোর্ড বা অন্য কোনো আইনি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করবে। আবেদন নিষ্পত্তির (মঞ্জুর বা নামঞ্জুর) ৭ দিনের মধ্যে অধিদপ্তর থেকে আবেদনকারীকে ফলাফল জানাতে হবে। যদি কোনো আবেদন নামঞ্জুর হয়, তবে আবেদনকারী নামঞ্জুরের তারিখ হতে ২ মাসের মধ্যে সচিব বরাবর আপিল করতে পারবেন।
বিশেষ শর্ত ও বিধিনিষেধ
নীতিমালায় কিছু কঠোর শর্তারোপ করা হয়েছে যা শিক্ষকদের মেনে চলতে হবে:
- অবসর গ্রহণের কমপক্ষে ১ (এক) বছর পূর্বে সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে।
- সংশোধনের ফলে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি পেলেও কোনো বকেয়া বেতন দাবি করা যাবে না।
- ভুল তথ্য প্রদান বা ইচ্ছাকৃতভাবে হয়রানি করার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
| ভুলের প্রকৃতি | করণীয় ও সংশোধনের ভিত্তি |
|---|---|
| অস্বাভাবিক বা অযৌক্তিক জন্মতারিখ | যোগদানের সময় বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর বিবেচনা করা হবে। |
| এনআইডি ও সনদে ভিন্ন ভিন্ন তারিখ | দাখিল বা সমমান সনদকে ভিত্তি ধরে সংশোধনযোগ্য। |
| মুদ্রণজনিত কারণে তারিখ বা সন ভুল | সনদ ও এনআইডি একই থাকলে সংশোধন করা যাবে। |
| পরবর্তী এমপিও শিটে ভুল প্রবেশ | প্রথম এমপিও শিট ও সনদের তথ্য একই থাকলে সংশোধন হবে। |
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব স্বাক্ষরিত এই নতুন নীতিমালাটি গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ হতে কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের (dme.gov.bd) ওয়েবসাইটে নজর রাখুন।
মাদ্রাসা এমপিও শিটের জন্মতারিখ সংশোধন নীতিমালা ২০২৬ pdf
মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও শিটে জন্মতারিখ সংশোধন ও পরিবর্তন করতে যে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ পড়ে তারপর পদক্ষেপ নিন। অসম্পূর্ণ আবেদন বাতিল ও ভুল তথ্য দেওয়া আবেদনের জন্য শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন। তাই এবিষয়ে সতর্ক থাকুন। নিচের অনৃুচ্ছেদে বয়স সংশোধনের নীতিমালার পিডিএফ কপির ইমেজ ভার্সন যুক্ত করা হলো:


জন্মতারিখ সংশোধন নীতিমালা পিডিএফ ডাউনলোড করুন
আরো দেখুন:
মাদ্রাসা এমপিও নীতিমালা ও কাঠামো ২০২৬
এমপিও শিক্ষক বদলি নীতিমালা ২০২৬ (স্কুল-কলেজ)





